[ বিভাগ ]
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন। সঠিক/সর্বোৎকৃষ্ট উত্তরটি খাতায় লেখো (১-১৫)=১৫×১=১৫
১। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কী?
ক. ডিজিটাল স্বাক্ষর
গ. ডিজিটাল কার্যক্রমের ইতিহাস✔
খ. ডিজিটাল প্রিন্টিং ব্যবস্থা
ঘ. ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ
২। PIN Code কীসের দ্বারা তৈরি করা হয়?
ক. শুধুমাত্র সংখ্যা✔
'গ. অক্ষর ও সংখ্যার মিশ্রণ
খ. শুধুমাত্র অক্ষর
ঘ. অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্নের সমন্বয়
৩। নিচের কোনটি ই-মেইলের উদাহরণ?
ক. Google
খ. Yahoo Mail✔
গ. Facebook
ঘ.Bing
৪। মুঠোফোনের নিরাপদ ব্যবহার কোনটি?
ক. পিন কোড
খ. পিন নাম্বার
গ. পাস কোড
ঘ. সব কয়টি✔
৫। নির্দিষ্ট দর্শক বা শ্রোতাকে কী বলা হয়?
ক. প্রেক্ষাপট
খ. TVC
গ. লক্ষ্যদল✔
ঘ. ভোক্তা
৬। ডিজিটাল ডিভাইস বা চ্যানেল ব্যবহার করে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করাকে কী বলে?
ক. আর্থিক লেনদেন
খ. অর্থ বিনিময়
গ. ডিজিটাল পেমেন্ট✔
গ. এডোবি ফটোশপ
৭। নিচের কোনটি অনলাইন বেসড গ্রাফিক্স ডিজাইন টুল?
ক. ক্যানভা✔
খ. মাইক্রোসফট
ঘ. ক্যাশ পেমেন্ট
ঘ. পিকাসা
৮। একাধিক অবজেক্ট-এর মধ্যে রঙ ও শেপের সংমিশ্রণ ঘটাতে কোন টুলের সাহায্য নিতে হয়?
ক. Eyedropper
খ. Blend✔
গ. Rectangle
ঘ. Type
৯। নিচের কোনটি সঠিক ভ্যারিয়েবল?
ক. 6x
খ. absc
গ. my_name✔
ঘ. @my_name
১০। % কী ধরনের গাণিতিক অপারেটর?
ক. যোগ অপারেটর
খ. গুণ অপারেটর
গ. ভাগ অপারেটর
ঘ. মডুলো অপারেটর✔
১১। my_variable 25.07 এখানে কোন ধরনের ডেটা টাইপ ব্যবহৃত হয়েছে?
ক. int
খ. Float✔
গ. str
ঘ. bool
১২। যোগাযোগের উভয় প্রান্ত একই সাথে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে কোন মোডে?
ক. সিমপ্লেক্স
খ. হাফ-ডুপ্লেক্স
গ. ফুল-ডুপ্লেক্স✔
ঘ. সেমি-ডুপ্লেক্স
১৩। সাধারণত ১০০ মিটার বা তার কম এরিয়ার মধ্যে কোন ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে?
ক. PAN
খ. LAN✔
গ. MAN
ঘ. WAN
১৪। এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডেটা প্যাকেট ফরওয়ার্ড করে কোনটি?
ক. হাব
খ. সুইচ
গ. রাউটার✔
ঘ. NIC
১৫। প্রতিটি NIC কার্ডে নির্মাতা কর্তৃক নির্ধারিত একটি অনন্য ঠিকানা থাকে, একে কী বলে?
ক. MAC Address✔
খ. IP Address
গ. Cell Address
ঘ. NIC Address
সঠিক উত্তরগুলো:
১। গ. ডিজিটাল কার্যক্রমের ইতিহাস
২। ক. শুধুমাত্র সংখ্যা
৩। খ. Mail
৪। ঘ. সব কয়টি
৫। গ. লক্ষ্যদল
৬। গ. ডিজিটাল পেমেন্ট
৭। ক. ক্যানভা
৮। খ. Blend
৯। গ. my_name
১০। ঘ. মডুলো অপারেটর
১১। খ. Float
১২। গ. ফুল-ডুপ্লেক্স
১৩। খ. LAN
১৪। গ. রাউটার
১৫। ক. MAC Address
[এক কথায় উত্তর ]
এক কথায় উত্তর দাও [(প্রশ্ন ১৬-২৫) নং প্রতিটি প্রশ্নের মান ১১
১৬। ৬ অংক।
১৭। General Diary
১৮। পাসপোর্ট।
১৯। ই-কমার্স।
২০। ড্রয়িং টুল।
২১। পেন টুল।
২২। ডেটাটাইপ।
২৩। বুলিয়ান।
২৪। সিমপ্লেক্স।
২৫। ওয়ান (WAN)।
[খ বিভাগ ]
সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ২×১০=২০
১। ফিশিং বলতে কী বুঝ?
ফিশিং হলো একটি সাইবার আক্রমণ পদ্ধতি, যেখানে প্রতারকরা ভুয়া ইমেইল বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক ডিটেইলস) চুরি করে।
২। মেটাডেটা সম্পর্কে লিখ।
মেটাডেটা হলো ডেটা সম্পর্কে তথ্য, যা মূল ডেটার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বা বিবরণী প্রদান করে। উদাহরণ: একটি ছবির মেটাডেটা হতে পারে তার ফাইল সাইজ, রেজল্যুশন এবং তৈরির তারিখ।
৩। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট দ্বারা কী বুঝায়?
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট হলো ইন্টারনেটে একজন ব্যক্তির কার্যকলাপের রেকর্ড, যেমন ব্রাউজিং হিস্ট্রি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা সার্চ হিস্ট্রি।
৪। Canva সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।
Canva একটি গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীদের সহজে পোস্টার, লোগো, স্লাইড, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাফিক ইত্যাদি ডিজাইন করতে সহায়তা করে।
৫। ই-কমার্স বলতে কী বুঝ?
ই-কমার্স হলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় এবং অর্থ লেনদেন করা হয়।
৬। নাগরিক সেবা বলতে কী বুঝ?
নাগরিক সেবা হলো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত সুবিধাসমূহ, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করতে সহায়তা করে, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও বিদ্যুৎ।
৭। পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার ২টি সুবিধা লিখ।
১। সহজ এবং মানব-বান্ধব সিনট্যাক্স।
২। বিভিন্ন কাজে (যেমন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্স) ব্যবহারযোগ্য।
৮। ভ্যারিয়েবল নামকরণের ২টি নিয়ম লিখ।
১। ভ্যারিয়েবলের নাম সংখ্যা দিয়ে শুরু করা যাবে না।
২। নামের মধ্যে শুধুমাত্র অক্ষর, সংখ্যা, এবং আন্ডারস্কোর (_) ব্যবহার করা যাবে।
৯। ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১। সিমপ্লেক্স।
২। হাফ-ডুপ্লেক্স।
৩। ফুল-ডুপ্লেক্স।
১০। মডেম কীভাবে কাজ করে?
মডেম অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যাল এবং ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যাল রূপান্তর করে, যা ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।
[গ বিভাগ ] রচনামূলক প্রশ্ন
যেকোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫×৩)
প্রশ্ন ১. ফিশিং আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নিচের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় লিখ।
উত্তর :
১. অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন
২. মজবুত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
৩. দুই ধাপ যাচাই (2FA) চালু করুন
৪. নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন
৫. ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে সতর্ক থাকুন
২. ইলাস্ট্রাটরে ফাইল সেইভ ও প্রিন্ট করার ধাপ
উত্তর : অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটরে ফাইল সেইভ এবং প্রিন্ট করার ধাপগুলো নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
➤ফাইল সেইভ করার ধাপ:
1. ফাইল তৈরি বা সম্পাদনা করুন।
আপনার ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন।
2. সেভ করার জন্য "File" মেনুতে ক্লিক করুন।
3. "Save As" নির্বাচন করুন।
প্রয়োজনমতো ফাইলের নাম দিন এবং ফরম্যাট নির্বাচন করুন (যেমন, AI, PDF, EPS, SVG ইত্যাদি)।
4. ফাইলের অবস্থান নির্ধারণ করুন।
কোথায় সংরক্ষণ করবেন তা নির্বাচন করুন।
5. "Save" বোতামে ক্লিক করুন।
ফাইলের ফরম্যাট অনুযায়ী অতিরিক্ত অপশন আসলে সেগুলো কনফিগার করুন।
➤ফাইল প্রিন্ট করার ধাপ:
1. প্রিন্টের জন্য ফাইল প্রস্তুত করুন।
2. "File" মেনুতে ক্লিক করুন।
3. "Print" নির্বাচন করুন।
4. প্রিন্ট সেটিংস কনফিগার করুন।
5. "Print" বোতামে ক্লিক করুন।
ফাইলটি প্রিন্ট হতে শুরু করবে।
৩. পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের ৪টি প্রধান ডেটা টাইপ বর্ণনা কর।
উত্তর : পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের প্রধান চারটি ডেটা টাইপ এবং তাদের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
১. ইন্টিজার (Integer)
এটি একটি পূর্ণসংখ্যা (positive বা negative) যা দশমিকবিন্দু ছাড়া উপস্থাপিত হয়।
উদাহরণ: num = 10 # একটি integer মান
২. ফ্লোট (Float)
এটি দশমিকবিন্দু সহ সংখ্যা সংরক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: pi = 3.14 # একটি float মান
৩. স্ট্রিং (String)
এটি অক্ষর বা টেক্সটের একটি সিকোয়েন্স যা ডাবল কোটেশন (" ") বা সিঙ্গেল কোটেশন (' ') এর মধ্যে থাকে।
উদাহরণ: name = "Python" # একটি string মান
৪. বুলিয়ান (Boolean) : এটি শুধুমাত্র দুটি মান ধারণ করে: True বা False। শর্ত যাচাই ও লজিক্যাল অপারেশনগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: is_active = True # একটি boolean মান
৪. তারযুক্ত ও তারবিহীন নেটওয়ার্ক এর ৫টি পার্থক্য লিখ।
তারযুক্ত এবং তারবিহীন নেটওয়ার্কের মধ্যে ৫টি পার্থক্য:
১. সংযোগ মাধ্যম:
তারযুক্ত নেটওয়ার্কে ফিজিক্যাল তার (যেমন ইথারনেট কেবল) ব্যবহার হয়।
তারবিহীন নেটওয়ার্কে রেডিও সিগন্যাল বা ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়।
২. ডেটা গতি:
তারযুক্ত নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে উচ্চ গতি সরবরাহ করে। তারবিহীন নেটওয়ার্কে গতি তুলনামূলক কম হলেও আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন Wi-Fi 6) উন্নত গতি দিতে সক্ষম।
৩. স্থিরতা:
তারযুক্ত নেটওয়ার্কে সংযোগ খুবই স্থিতিশীল এবং বাধাহীন।
তারবিহীন নেটওয়ার্কে সিগন্যাল ড্রপ বা বাধার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৪. ব্যবহারযোগ্যতা:
তারযুক্ত নেটওয়ার্ক স্থির ডিভাইসের জন্য বেশি উপযুক্ত।
তারবিহীন নেটওয়ার্ক মোবাইল এবং পোর্টেবল ডিভাইসের জন্য বেশি কার্যকর।
৫. ইনস্টলেশন খরচ:
তারযুক্ত নেটওয়ার্ক স্থাপনার জন্য তার এবং সরঞ্জামের খরচ বেশি।
তারবিহীন নেটওয়ার্কে ইনস্টলেশন সহজ এবং খরচ কম।
প্রশ্ন ৫. তারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার ধাপগুলো লিখ।
উত্তর : তারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রস্তুত করুন:
একটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, অথবা নেটওয়ার্ক ডিভাইস নির্বাচন করুন।
নেটওয়ার্ক ডিভাইস (যেমন রাউটার বা সুইচ) নিশ্চিত করুন।
২. ইথারনেট ক্যাবল সংগ্রহ করুন:
ক্যাটেগরি 5e বা 6 ধরনের ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করুন।
ক্যাবলটি যথেষ্ট লম্বা এবং অক্ষত আছে কিনা যাচাই করুন।
৩. ক্যাবল সংযুক্ত করুন:
ইথারনেট ক্যাবলের একটি প্রান্ত কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক পোর্টে সংযুক্ত করুন।
অন্য প্রান্তটি রাউটার, সুইচ, অথবা মডেমের পোর্টে যুক্ত করুন।
৪. নেটওয়ার্ক ডিভাইস চালু করুন:
রাউটার, মডেম, বা সুইচ চালু করে নিশ্চিত করুন ডিভাইস সক্রিয় অবস্থায় আছে।
৫. নেটওয়ার্ক সেটআপ করুন:
কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক সেটিংসে গিয়ে Automatic IP Configuration (DHCP) চালু করুন।
অথবা, ম্যানুয়াল IP ঠিকানা এবং DNS সেটআপ করুন (প্রয়োজন হলে)।
৬. ইন্টারনেট সংযোগ যাচাই করুন:
সংযোগ সফল হলে কম্পিউটারে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করুন।
ব্রাউজার খুলে ওয়েবপেজ লোড করে পরীক্ষা করুন।
[ঘ বিভাগ ] রচনামূলক প্রশ্ন (দৃশ্যপটনির্ভর)
যেকোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও/৮×৫ = ৪০
প্রশ্ন ১। অনিক স্কুল থেকে বাসায় এসে দেখল মায়ের মোবাইলে একটি মেসেজ এসেছে, যেখানে একটি লিংকে ক্লিক করলে বড় অংকের টাকা পুরস্কার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনিক মায়ের অনুমতি ছাড়া মেসেজটি দেখে এবং লিংকে ক্লিক করার কথা ভাবে। তবে তার মনে হয়, আগে মায়ের সাথে আলোচনা করা উচিত। অনিক তার মাকে। মেসেজটি দেখালে মা তাকে বলে এটি প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে, কারণ এর আগে এমন একটি বার্তা তার বাবার মোবাইলেও এসেছিল। মায়ের কথায় অনিক চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং ফিশিং সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী হয়।
ক. অনিক ফিশিং মেসেজ সম্পর্কে কী শিখল এবং কেন তার মায়ের পরামর্শ নেওয়া উচিত মনে করেছিল? ৩
খ. ফিশিং প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় কী কী? দৃশ্যপটের আলোকে বর্ণনা কর। ৫
উত্তর :
ক. অনিক ফিশিং মেসেজ সম্পর্কে কী শিখল এবং কেন তার মায়ের পরামর্শ নেওয়া উচিত মনে করেছিল?
অনিক শিখল যে ফিশিং একটি সাইবার প্রতারণার পদ্ধতি, যেখানে ভুয়া মেসেজ বা লিংক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। মায়ের পরামর্শ নেওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, কারণ মা তাকে জানালেন এ ধরনের মেসেজ প্রতারণামূলক হতে পারে। এর আগে এমন একটি ঘটনা তার বাবার সাথেও ঘটেছিল, যা মায়ের অভিজ্ঞতা থেকে তাকে সচেতন হতে সাহায্য করল।
খ. ফিশিং প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় কী কী? দৃশ্যপটের আলোকে বর্ণনা কর।
১। অপরিচিত লিংক বা মেসেজে ক্লিক না করা: মেসেজে দেওয়া লিংকটি ক্লিক না করাই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এগুলো প্রতারণামূলক হতে পারে।
২। মেসেজের সত্যতা যাচাই করা: সন্দেহজনক মেসেজ পাওয়ার পর পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
৩। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা: কোনো লিংকে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়া।
৪। সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা: ফিশিং প্রতারণার ধরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং অন্যদের সচেতন করা।
৫। সন্দেহজনক মেসেজ বা লিংক ব্লক করা: অনিকের উচিত সন্দেহজনক মেসেজ মুছে ফেলা এবং নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া।
দৃশ্যপটে অনিক মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে।
প্রশ্ন ২। আলম একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করে এবং তার মুঠোফোনে ব্যবসায়িক যোগাযোগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। সম্প্রতি তার বন্ধু জামাল তাকে জানিয়েছে যে তার মুঠোফোনে একটি নিরাপত্তা সফটওয়্যার ইনস্টল না থাকার কারণে তার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি রয়েছে। আলম এখন চিন্তিত এবং নিশ্চিত হতে চায় যে তার মুঠোফোন নিরাপদ কিনা।
ক. আলম তার মুঠোফোনের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণ কর। ৩
খ. আলমের মুঠোফোনের নিরাপত্তা আরো উন্নত করার জন্য কী কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা কর। ৫
উত্তর :
ক. আলম তার মুঠোফোনের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে:
১. পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক ব্যবহার: মুঠোফোনে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, প্যাটার্ন বা বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস রিকগনিশন) সক্রিয় করতে হবে।
২. নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল: একটি বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সফটওয়্যার (যেমন Bitdefender, Avast) ইনস্টল করে তা নিয়মিত আপডেট করতে হবে।
৩. অ্যাপ পারমিশন নিয়ন্ত্রণ: ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর পারমিশন (অ্যাক্সেস) নিয়মিত পর্যালোচনা করা। অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ রাখা।
৪. অপারেটিং সিস্টেম আপডেট: মুঠোফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট করা প্রয়োজন, কারণ এতে নিরাপত্তা ফিচারগুলো উন্নত হয়।
৫. অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড এড়ানো: শুধু Google Play Store বা Apple App Store থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা।
৬. ডেটা এনক্রিপশন: ডেটা এনক্রিপশন সক্রিয় রাখলে, ফোন চুরি হলেও ডেটা অ্যাক্সেস করা কঠিন হয়।
৭. দ্বিপদ নিরাপত্তা (Two-Factor Authentication): গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা।
খ. মুঠোফোনের নিরাপত্তা আরো উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ:
১. VPN ব্যবহার: পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় VPN ব্যবহার করলে ডেটা এনক্রিপ্ট থাকে এবং হ্যাকারদের পক্ষে তা চুরি করা কঠিন হয়।
২. ফোন ট্র্যাকিং ও রিমোট ওয়াইপিং সিস্টেম সক্রিয় করা: ফোন হারিয়ে গেলে Google Find My Device বা Apple Find My iPhone এর মাধ্যমে ফোন খুঁজে পাওয়া বা রিমোট থেকে ডেটা মুছে ফেলা সম্ভব।
৩. ব্যাকআপ নেওয়া: নিয়মিত ক্লাউড বা অফলাইন ব্যাকআপ রাখা। এর ফলে ফোন চুরি হলেও তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
৪. ফিশিং এড়িয়ে চলা: সন্দেহজনক লিংক বা ইমেইল খুলতে না যাওয়া এবং ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকা।
৫. অটোমেটিক লক চালু: নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার না করলে ফোন নিজে থেকে লক হয়ে যাবে, এমন সিস্টেম চালু রাখা।
৬. নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: ফোনের ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখা এবং শুধুমাত্র নিরাপদ নেটওয়ার্কে সংযোগ করা।
৭. নিয়মিত নিরাপত্তা চেক করা: ফোনের নিরাপত্তা সফটওয়্যার দিয়ে স্ক্যান চালিয়ে ক্ষতিকর অ্যাপ বা ফাইল শনাক্ত করা।
৮. বিশেষায়িত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ: ব্যবসায়িক তথ্য নিরাপত্তার জন্য বিশেষায়িত অ্যাপ (যেমন Microsoft Authenticator বা Google Workspace Security) ব্যবহার করা।
এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে আলম তার মুঠোফোনের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করতে পারবেন।
প্রশ্ন ৩। প্রিয়া তার পাঠ্যবইটি হারিয়ে ফেলার কারণে নতুন পাঠ্যবই কিনতে এনসিটিবি অফিসে যেতে পারত। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সে সরাসরি এনসিটিবির ওয়েবসাইট থেকে তার প্রয়োজনীয় বইটি সহজেই ডাউনলোড করে নিল। এখন, প্রিয়ার জন্য এই সুবিধাটি একেবারেই নতুন এবং তার সময় ও খরচের পরিমাণ অনেক কমে গেছে।
ক. ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রিয়ার শিক্ষামূলক বই ডাউনলোড করার সুবিধা ব্যাখ্যা কর। ৩
খ. ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রিয়া আর কী কী নাগরিক সেবা ভোগ করতে পারে? আলোচনা কর। ৫
উত্তর :
ক. ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রিয়ার শিক্ষামূলক বই ডাউনলোড করার সুবিধা:
১. সহজলভ্যতা: প্রিয়া যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বইটি ডাউনলোড করতে পেরেছে।
২. খরচ সাশ্রয়: নতুন বই কিনতে টাকা খরচ করার প্রয়োজন হয়নি, ফলে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
৩. সময় বাঁচানো: এনসিটিবি অফিসে যাওয়ার সময় ও যাতায়াতের ঝামেলা এড়ানো গেছে।
৪. দ্রুত সমাধান: বই হারানোর সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়েছে, কারণ ডাউনলোড প্রক্রিয়া খুব কম সময় নিয়েছে।
৫. বহুবার ব্যবহারযোগ্য: ডাউনলোড করা ফাইল পুনরায় মুদ্রণ ছাড়াই বারবার পড়া সম্ভব।
৬. পরিবেশবান্ধব: বই মুদ্রণের প্রয়োজন কমে গেলে কাগজের ব্যবহার কমে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
খ. ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রিয়া আর কী কী নাগরিক সেবা ভোগ করতে পারে?
১. শিক্ষা সেবা:
অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম (যেমন: e-Shikhon, Khan Academy) থেকে পড়াশোনা।
ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশগ্রহণ।
পরীক্ষার রেজাল্ট অনলাইনে দেখা।
২. স্বাস্থ্যসেবা:
টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ নেওয়া। হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা।
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য বা রিপোর্ট ডাউনলোড করা।
৩. সরকারি সেবা:
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট আবেদন।
বিদ্যুৎ বিল বা পানির বিল পরিশোধ।
ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড বা সংশোধন।
৪. ব্যাংকিং সেবা:
মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: বিকাশ, নগদ) ব্যবহার করে লেনদেন করা। অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর।
৫. বিনোদন ও তথ্যসেবা:
অনলাইন লাইব্রেরি থেকে বই পড়া।
ইউটিউব বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা।
৬. অনলাইন কেনাকাটা:
প্রয়োজনীয় বই, পোশাক, বা অন্যান্য জিনিসপত্র ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম (যেমন: Daraz) থেকে কেনা।
৭. পরিবহন সেবা:
রাইড শেয়ারিং অ্যাপ (যেমন: Pathao, Uber) ব্যবহার করে যাতায়াত। ট্রেন বা বাসের টিকিট অনলাইনে কেনা।
ডিজিটাল প্রযুক্তি শুধু প্রিয়ার শিক্ষা নয়, বরং তার দৈনন্দিন জীবন সহজতর ও উন্নত করতে পারে।
প্রশ্ন ৪। রিয়াদ তার নিজের একটি ই-কমার্স উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে। সে প্রথমে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রির জন্য টার্গেট করে। পরে সে বিভিন্ন মোবাইল পেমেন্ট মাধ্যম যুক্ত করে। রিয়াদ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে চায় যেখানে গ্রাহকরা সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে তার পণ্য কিনতে পারবে। তবে রিয়াদের কিছু আইনগত বিষয় জানতে হবে, যেমন- ট্রেডমার্ক, নিবন্ধন এবং কপিরাইট আইন।
ক. রিয়াদ ই-কমার্স উদ্যোগের জন্য কী ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম যুক্ত করতে পারে? এর সুবিধাগুলো কী? ৩
খ. মেধাস্বত্ব রক্ষা করার জন্য রিয়াদের ই-কমার্স উদ্যোগে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর। ৫
উত্তর :
ক. রিয়াদ ই-কমার্স উদ্যোগের জন্য যে ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম যুক্ত করতে পারে এবং এর সুবিধাগুলো:
ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম:
১. মোবাইল ব্যাংকিং সেবা: বিকাশ, নগদ, রকেট।
২. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে: SSLCOMMERZ, aamarPay।
৩. ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট: Visa, Mastercard।
৪. ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেম (যদি বিদেশি ক্রেতা টার্গেট হয়): PayPal, Stripe।
৫. ক্যাশ অন ডেলিভারি: গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নগদ টাকা নেওয়া।
সুবিধাগুলো:
১. গ্রাহকের সুবিধা: বিভিন্ন পেমেন্ট অপশন থাকায় গ্রাহকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী লেনদেন করতে পারেন।
২. ব্যবসার সুনাম বৃদ্ধি: ডিজিটাল পেমেন্ট যুক্ত করলে রিয়াদের ই-কমার্স ব্যবসা আরও পেশাদার ও গ্রাহক-বান্ধব বলে বিবেচিত হবে।
৩. নিরাপত্তা: ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমে লেনদেন সুরক্ষিত থাকে এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমে।
৪. সময় সাশ্রয়: গ্রাহকদের দ্রুত পেমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করার সুযোগ দেয়।
৫. বিপণন সুযোগ: মোবাইল ব্যাংকিং ও পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার দেওয়া যায়।
খ. মেধাস্বত্ব রক্ষা করার জন্য রিয়াদের ই-কমার্স উদ্যোগে নেওয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
১. ট্রেডমার্ক নিবন্ধন:
রিয়াদের ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। এটি তার ব্র্যান্ডকে সুরক্ষিত করবে এবং অন্য কেউ তা অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
২. কপিরাইট আইন:
পণ্যের ছবি, বর্ণনা, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং অন্যান্য কনটেন্টের জন্য কপিরাইট নিবন্ধন করতে হবে।
৩. ডোমেইন নাম নিবন্ধন:
ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য একটি ইউনিক ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা উচিত যাতে এটি অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে।
৪. ব্যবসার নিবন্ধন:
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবসার নিবন্ধন করতে হবে। এটি করপোরেট সুরক্ষা ও গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
৫. ডেটা প্রাইভেসি পলিসি:
গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য একটি প্রাইভেসি পলিসি তৈরি করা এবং ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা।
৬. বৌদ্ধিক সম্পত্তি আইন মেনে চলা:
অন্য কোনো ব্র্যান্ডের পণ্যের নকল বা কপিরাইট লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকা।
৭. আইনি পরামর্শ:
মেধাস্বত্ব এবং ই-কমার্স ব্যবসার অন্যান্য আইনগত বিষয়ে একজন দক্ষ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।
৮. ডিজিটাল নিরাপত্তা:
ওয়েবসাইট ও পেমেন্ট গেটওয়ে সুরক্ষিত রাখতে SSL সার্টিফিকেট এবং ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে হবে।
এই পদক্ষেপগুলো রিয়াদের ই-কমার্স উদ্যোগকে আইনত সুরক্ষিত ও পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন ৫ : শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যাচাই করার জন্য নাম কল করে, শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলে Yes বলে। কিন্তু ক্লাসে এমন দুইজন শিক্ষার্থী আছে, তাদের উভয়ের নাম সোহাগ। যখনই শিক্ষক সোহাগ নাম কল করে, তারা দুইজনেই একসাথে Yes বলে। ফলে হাজিরা খাতায় টিক দিতে শিক্ষকের অসুবিধা হয়। অসুবিধা দূর করার জন্য শিক্ষক তাদের দুইজনের নামের পাশে সোহাগ ১ ও সোহাগ ২ নামকরণ করেন।
ক. শিক্ষকের নামকরণ কি ভ্যারিয়েবলের মতো--ব্যাখ্যা কর। ৩
খ. শিক্ষকের নামকরণ ভ্যারিয়েবল নামকরণের অনুরূপ হলে নিয়মাবলী লিখ এবং প্রোগ্রামে কী একই নামে ২টি ভ্যারিয়েবল রাখা যায়? বিশ্লেষণ কর ৫
উত্তর :
ক. শিক্ষকের নামকরণ কি ভ্যারিয়েবলের মতো--ব্যাখ্যা কর:
হ্যাঁ, শিক্ষকের নামকরণ ভ্যারিয়েবলের মতো। কারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নামের দ্বৈততা দূর করার জন্য শিক্ষক সোহাগ নামের পাশে একটি সংখ্যা যোগ করে তাদের পরিচিতি আলাদা করেছেন। এটি প্রোগ্রামিংয়ে ভ্যারিয়েবল ব্যবহারের মতোই, যেখানে ভিন্ন ডেটা বা মানকে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ভ্যারিয়েবলকে একটি ইউনিক নাম দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ: সোহাগ ১ এবং সোহাগ ২ দুটি আলাদা ভ্যারিয়েবলের মতো কাজ করছে, যা ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষার্থীকে নির্দেশ করে।
খ. শিক্ষকের নামকরণ ভ্যারিয়েবল নামকরণের অনুরূপ হলে নিয়মাবলী লিখ এবং প্রোগ্রামে কী একই নামে ২টি ভ্যারিয়েবল রাখা যায়? বিশ্লেষণ কর:
ভ্যারিয়েবল নামকরণের নিয়মাবলী:
১. ইউনিক নাম: প্রতিটি ভ্যারিয়েবল একটি ইউনিক (একক) নাম থাকতে হবে, যাতে দ্বৈততা না হয়।
২. সংখ্যার ব্যবহার: ভ্যারিয়েবল নাম অক্ষর দিয়ে শুরু হতে হবে, তবে নামের মধ্যে সংখ্যা থাকতে পারে (যেমন sohag1, sohag2)।
৩. স্পেশাল ক্যারেক্টার না থাকা: ভ্যারিয়েবল নামের মধ্যে @, $, %, - এর মতো চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না, তবে _ (আন্ডারস্কোর) ব্যবহার করা যায়।
৪. রিজার্ভড ওয়ার্ড ব্যবহার না করা: প্রোগ্রামের জন্য সংরক্ষিত শব্দ (যেমন int, class) ভ্যারিয়েবল নাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
৫. অর্থবোধক নাম: ভ্যারিয়েবলের নাম যেন তার কাজ বা ডেটার অর্থ নির্দেশ করে।
একই নামে ২টি ভ্যারিয়েবল রাখা যায় কি না?
প্রোগ্রামে একই স্কোপে (scope) একই নামে দুটি ভ্যারিয়েবল রাখা যায় না। কারণ, এটি নাম সংঘর্ষ (naming conflict) তৈরি করে এবং প্রোগ্রামটি কোন ভ্যারিয়েবলটি বোঝানো হয়েছে তা নির্ধারণ করতে পারে না। তবে, বিভিন্ন স্কোপে (যেমন: দুটি আলাদা ফাংশনে) একই নাম ব্যবহার করা সম্ভব। উদাহরণ:
def function1():
sohag = "Sohag 1"
print(sohag)
def function2():
sohag = "Sohag 2"
print(sohag)
function1() # Output: Sohag 1
function2() # Output: Sohag 2
বিশ্লেষণ:
শিক্ষকের নামকরণ প্রক্রিয়া ভ্যারিয়েবলের নামকরণের মতোই। একই ক্লাসে দুটি ভিন্ন শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক নামকরণ (যেমন সোহাগ ১, সোহাগ ২) করা প্রয়োজন, ঠিক যেভাবে প্রোগ্রামে দুটি ভিন্ন ভ্যারিয়েবল রাখতে ইউনিক নাম ব্যবহার করতে হয়। এতে দ্ব্যর্থতা দূর হয় এবং সঠিক ডেটা সনাক্ত করা সহজ হয়।
প্রশ্ন ৬ : সিফাত তাদের হেড অফিস থেকে দূরবর্তী শাখা অফিসে একটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠাবে। এজন্য সে তাদের অফিসের পিয়নের হাতে ডকুমেন্টটি দিয়ে হাতে হাতে পৌঁছে দিয়ে আসতে বলে। সিফাতের সহকর্মী রিফাত ডকুমেন্টটি পিয়নের কাছ থেকে নিয়ে ছবি তুলে তাদের শাখা অফিসে ই-মেইল করে দেয়।
ক. হেড অফিস থেকে দূরবর্তী শাখা অফিসে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানোর সংযোগ ব্যবস্থাটি কী? ব্যাখ্যা কর। ৩
খ. দৃশ্যপটে উল্লিখিত ডকুমেন্টটি হাতে হাতে পৌঁছানো এবং ই-মেইলে পাঠানো এই দুই নেটওয়ার্ক পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর। ৫
উত্তর :
ক. হেড অফিস থেকে দূরবর্তী শাখা অফিসে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানোর সংযোগ ব্যবস্থাটি কী? ব্যাখ্যা কর:
হেড অফিস থেকে শাখা অফিসে ডকুমেন্ট পাঠানোর সংযোগ ব্যবস্থাটি হলো ম্যানুয়াল নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক।
১. ম্যানুয়াল নেটওয়ার্ক:
পিয়নের মাধ্যমে হাতে হাতে ডকুমেন্ট পাঠানো একটি ম্যানুয়াল পদ্ধতি, যেখানে শারীরিক উপস্থিতি এবং সময় লাগে।
২. ডিজিটাল নেটওয়ার্ক:
রিফাত ডকুমেন্টটি ছবি তুলে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছে, যা একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
খ. হাতে হাতে পৌঁছানো এবং ই-মেইলে পাঠানোর নেটওয়ার্ক পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
খ. হাতে হাতে পৌঁছানো এবং ই-মেইলে পাঠানোর নেটওয়ার্ক পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ (তালিকা আকারে):
হাতে হাতে পৌঁছানো:
১. সময়সাপেক্ষ, শারীরিকভাবে পৌঁছাতে সময় লাগে।
২. পিয়নের দক্ষতার উপর নির্ভরশীল।
৩. ডকুমেন্ট হারানোর বা ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।
৪. শারীরিক পরিবহন এবং সময়ের খরচ বেশি।
৫. মূল ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট পাঠানো হয়।
৬. পরিবহন খরচ এবং কার্বন নিঃসরণ বেশি।
৭. কোনো প্রযুক্তি প্রয়োজন হয় না।
৮. জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ডেলিভারি কঠিন।
ই-মেইলে পাঠানো:
১. খুব দ্রুত, ডকুমেন্ট মুহূর্তেই পৌঁছে যায়।
২. প্রযুক্তিগত ত্রুটি না হলে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
৩. সুরক্ষিতভাবে পাঠানো যায়, তবে হ্যাকিং বা ভুল ঠিকানায় যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
৪. ই-মেইলের খরচ কম এবং কার্যত বিনামূল্যে।
৫. ইলেকট্রনিক কপি (ইমেজ বা PDF) পাঠানো হয়।
৬. পরিবেশবান্ধব, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে।
৭. ইন্টারনেট এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন।
8. জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিক পাঠানো যায়।
উপসংহার:
ডকুমেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে ই-মেইলের মাধ্যমে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সময়, খরচ এবং সুরক্ষার দিক থেকে কার্যকর। তবে যদি মূল ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়, তখন হাতে হাতে পৌঁছানোর পদ্ধতি উপযুক্ত। সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া নির্ভর করে কাজের ধরন এবং প্রয়োজনের উপর।
প্রশ্ন ৭। রাহাত একদিন তার বন্ধু ফাহাদের সাথে শহরের এক নতুন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে বের হয়। তারা লক্ষ করল, শহরের কিছু রাস্তায় কেবল একদিক দিয়ে গাড়ি চলতে পারে। আবার কিছু রাস্তায় দুই দিক দিয়ে গাড়ি চলাচল করা সম্ভব, কিন্তু একসাথে নায়। দুই দিকের মধ্যে একদিকের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে অন্যদিকের গাড়ি চলতে পারে। আর কিছু রাস্তায় গাড়ি দুই দিক থেকেই একই সাথে চলতে পারে।
ক. দৃশ্যপটের বর্ণনাটি কী কী ধরনের ট্রান্সমিশন মোডের প্রতিনিধিত্ব করে--ব্যাখ্যা কর। ৩
খ. দৃশ্যপটের সাথে মিল রেখে ডিজিটাল মাধ্যমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মোডের মধ্যে তুলনা কর। ৫
➤➤উত্তর :
ক. দৃশ্যপটের বর্ণনাটি কী কী ধরনের ট্রান্সমিশন মোডের প্রতিনিধিত্ব করে--ব্যাখ্যা কর:
দৃশ্যপটে উল্লেখিত রাস্তাগুলো মূলত ডেটা ট্রান্সমিশনের তিনটি মোড নির্দেশ করে:
১. সিম্প্লেক্স (Simplex):
যেসব রাস্তায় একদিক দিয়ে গাড়ি চলতে পারে, সেটি সিম্প্লেক্স মোডের মতো।
ডেটা কেবল একমুখীভাবে স্থানান্তরিত হয়, যেমন: টেলিভিশন ব্রডকাস্ট।
২. হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex):
যেসব রাস্তায় দুই দিক দিয়ে গাড়ি চলতে পারে, কিন্তু একসাথে নয়, সেগুলো হাফ-ডুপ্লেক্স মোডের মতো।
ডেটা উভয় দিকেই যেতে পারে, তবে একবারে একটি দিকেই। যেমন: ওয়াকিটকি।
৩. ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex):
যেসব রাস্তায় দুই দিক থেকেই একই সাথে গাড়ি চলতে পারে, সেটি ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের মতো। ডেটা উভয় দিকেই একই সময়ে স্থানান্তরিত হয়। যেমন: টেলিফোন কল।
খ. দৃশ্যপটের সাথে মিল রেখে ডিজিটাল মাধ্যমে হাফ-ডুপ্লেক্স এবং ফুল-ডুপ্লেক্স মোডের তুলনা (তালিকা আকারে):
হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex):
১. ডেটা উভয় দিকেই যেতে পারে, তবে একবারে একটি দিক।
২. ডেটা স্থানান্তরের গতি তুলনামূলক ধীর।
৩. একপক্ষ অপেক্ষা করতে হয় অন্যপক্ষের ডেটা পাঠানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
৪. উদাহরণ: ওয়াকিটকি, সিগন্যালিং সিস্টেম।
৫. তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর, কারণ সময় নষ্ট হয়।
৬. প্রযুক্তিগতভাবে কম জটিল এবং ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন কম।
ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex):
১. ডেটা উভয় দিকেই একই সময়ে যেতে পারে।
১. ডেটা স্থানান্তরের গতি দ্রুত।
৩. উভয় পক্ষ একই সময়ে ডেটা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে।
৪. উদাহরণ: টেলিফোন কল, ভিডিও কনফারেন্স।
৫. অধিক কার্যকর, কারণ যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন।
৬. তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল এবং ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন বেশি।
উপসংহার:
হাফ-ডুপ্লেক্স সিস্টেম কম ব্যান্ডউইথে কাজ করতে পারে এবং সাধারণ যোগাযোগের জন্য কার্যকর, তবে ফুল-ডুপ্লেক্স সিস্টেম দ্রুত ও একসাথে যোগাযোগের জন্য আরও কার্যকর।
0 Comments